সময় ও দিনক্ষণ ঠিক করে পাকিস্তান সফরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এশিয়া ওয়ানের সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট ভবনের ৩৪ তলায় দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনা করেছে এবং ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের ইতিবাচক গতি’ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এশিয়া ওয়ানের খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিক জানতে চান, ‘বৈঠক কেমন হয়েছে?’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।’ এরপর পাকিস্তান সফরের পরিকল্পনা নিয়ে করা অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি দিনক্ষণ ঠিক করব। আমরা সময়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’ এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘বৈঠক খুব ভালো ছিল, বেশ আন্তরিকতাপূর্ণ বৈঠক হয়েছে।’
এর আগে বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়েও দুই নেতা একমত হন।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার করেছেন শাহবাজ শরিফ। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও একই মনোভাব পোষণ করে বলেন, তাঁর সরকার বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। দুই পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে।
