সাব-রেজিস্ট্রি বিভাগে বদলি নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ দূর করতে প্রথমবারের মতো ঢাকা শহরে লটারি পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিতকরণবিষয়ক এক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি বিভাগ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় পোস্টিং পেতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ শোনা যায়। লটারি পদ্ধতি চালু হলে এসব অনিয়ম দূর করা সম্ভব হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাইবার আইন ও বাক্স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। তবে একই সঙ্গে অপসাংবাদিকতা (ইয়েলো জার্নালিজম) এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের চরিত্রহননের অপচেষ্টাও নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। তিনি জানান, ‘সাইবার আইন-২০২৬’ আরও যুগোপযোগী করতে মন্ত্রিসভায় পাঠানো হলেও মানুষের বাক্স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি উপকমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে সম্পাদক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তেমনি রাজনৈতিক চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি দল বা বিএনপির কোনো নেতাও যদি এ পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি নিজ এলাকার এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতার এক বছরের কারাদণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
বিচার বিভাগের সংকট প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতে কয়েকজন বিচারপতি অর্থনৈতিক দুর্নীতি না করলেও বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। ধ্বংস করে দেওয়া সেই বিচারব্যবস্থা মেরামতের কাজ করছে বর্তমান সরকার। সরকারের মূল লক্ষ্য প্রতিশোধের রাজনীতি না করে মানুষের জন্য কাজ করা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। এ সংস্কারকাজে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে সকালে জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। পরে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে সমন্বয় সভায় যোগ দেন তিনি। সভায় সাতক্ষীরা-১, ২ ও ৩ আসনের সংসদ সদস্য, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার, জেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
