আগামী বছর পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা জানান।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চ মাসের যেকোনো একসময় রাজবাড়ীতে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারাজের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন।
এর আগে গত ১৩ মে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরকারের এই মেগা ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ অনুমোদন দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই মেগা প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
এই ব্যারাজ নির্মাণের ফলে দেশের ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মাস্টারমাইন্ড এই প্রকল্পের প্রাথমিক মেয়াদ ধরা হয়েছে পাঁচ বছর। তবে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬০–এর দশক থেকেই ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের জোরালো দাবি ওঠে। ২০০০ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্প প্রণয়নের লক্ষ্যে চারটি পৃথক সমীক্ষা পরিচালিত হয়েছিল। এরপর ২০০২ সালে প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে ব্যারাজের সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যার কাজ শেষ হয় ২০১৩ সালে। সেই সমীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই বর্তমানে এই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
