মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জাবাতান ইমিগ্রেশন মালয়েশিয়া)।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির ৪টি শিল্পাঞ্চলের অন্তত ৪০টি কারখানায় একযোগে চিরুনি অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১৯৬ জন বিদেশি কর্মীকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া এসব কর্মীর মধ্যে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।
অভিবাসন বিভাগের ৭১৫ জন কর্মকর্তার সঙ্গে এই বিশেষ অভিযানে অংশ নেয় রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ ও দেশটির সিভিল ডিফেন্স ফোর্সের সদস্যরা। দীর্ঘদিন ধরে চালানো গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই কারখানাগুলোতে একযোগে এই অভিযান চালানো হয়।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অভিযানের সময় মোট ২ হাজার ১৫৯ জনের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বৈধ কাগজপত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া এবং পাসের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ১ হাজার ১৯৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৮ থেকে ৬৩ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে ৯৪৬ জন পুরুষ এবং ২৫০ জন নারী কর্মী রয়েছেন।
আটক অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ভারত ও নেপালের নাগরিক রয়েছেন। তবে সুনির্দিষ্টভাবে ঠিক কতজন বাংলাদেশি নাগরিক আটক হয়েছেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটক সবাইকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্তের জন্য বর্তমানে ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।
শুধু বিদেশি কর্মীই নন, অবৈধ অভিবাসীদের কাজে রাখা এবং আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে ৩৭ জন মালয়েশীয় নাগরিক ও নিয়োগকর্তাকেও তদন্তের স্বার্থে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, কোনোভাবেই দেশের মাটিতে অবৈধদের বরদাশত করা হবে না। এ অবস্থায় মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সব সময় বৈধ নথিপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
