স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই এ বিষয়ে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। তবে যেসব ইউনিয়নে মামলা ও সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে, সেগুলোতে নির্বাচন পরে অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে স্থানীয় সরকারের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা ও ১৩টি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদ নির্বাচন উপযোগী রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরই ৩ হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে বা এগুলো নির্বাচন উপযোগী হবে। বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে। আসন্ন এসব নির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, আচরণবিধিমালা প্রণয়ন ও নির্বাচনী মালামাল সংগ্রহসহ যাবতীয় কাজ গুছিয়ে এনেছে কমিশন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ইসি এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য সার্বিকভাবে প্রস্তুত। তবে আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত স্কুলগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা যেন বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়টি মাথায় রেখে পরীক্ষার আগে বা পরে নির্বাচন হতে পারে। চলতি মাসের প্রথমার্ধেই কোন ধাপে, কখন নির্বাচন হবে—তা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও সর্বজনগ্রাহ্য করতে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ বা মতবিনিময় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, সবাই একটি ভালো নির্বাচন চায়, ইসিও তা-ই চায়। অংশীজনদের সঙ্গে বসলে ইতিবাচক ফলাফল আসবে। এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিজ পদে থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে কমিশন নিজেদের শক্ত অবস্থানেই অনড় রয়েছে। ইসি মনে করে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরাই নির্বাচনে সিংহভাগ নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের নিরপেক্ষ রাখা গেলে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন অনেকাংশে সহজ হয়ে যায়। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না।
