ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে সরাসরি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী এই হামলা চালায়।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলমান সংঘাত শুরুর পর এবারই প্রথমবারের মতো ইরানি কোনো জাহাজে সরাসরি হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে কেবল ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোর চলাচলে বাধা দেওয়া হতো।
মার্কিন এক কর্মকর্তা এক্সিওসকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্যাংকারের বদলে ট্যাংকার’ নীতির অনুমোদন দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবেই ইরানিদের তেলবাহী ওই জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এর অর্থ হলো, ইরান যদি এখন থেকে কোনো ট্যাংকারে হামলা চালায়, তবে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তাদের ট্যাংকারকেই লক্ষ্যবস্তু করবে মার্কিন বাহিনী।
এক্সিওসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, আক্রান্ত ট্যাংকার দুটি ইরানের উপকূলে মার্কিন বাহিনীর নৌ অবরোধের উত্তর দিকে অবস্থান করছিল। এ সময় সেগুলোর ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যা সরাসরি ট্যাংকারগুলোর ইঞ্জিনকক্ষে আঘাত হানে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে ইরান যেসব মার্কিন ট্যাংকার ও সেনাসদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে, মূলত তার প্রতিশোধ হিসেবেই গতকাল রাতে তাদের ট্যাংকারে এই হামলা চালানো হয়েছে।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে ইরান যেন তাদের রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নতুন করে গড়ে তুলতে না পারে, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্র একটি বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্যাংকারে এই হামলা সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাতে ইরানে প্রায় ১০০টি হামলা চালানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট