গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে এবার ফ্ল্যাট প্রতারণার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
পরবর্তী সময়ে ঢাকার আরেক অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে হরিদাসের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী বাসুদেব গুহ। শুনানি শেষে আদালত সেই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মাহবুবুর রহমান ও আরেক আসামি ওবায়দুল ইসলাম কলেজের বন্ধু। ওবায়দুল নিজেকে ‘অনয় ডেভেলপার’ কোম্পানির মালিক পরিচয় দিয়ে মাহবুবুরকে রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলেন। ফ্ল্যাট কেনার জন্য মাহবুবুর প্রথমে ১০ লাখ ৮৫ হাজার এবং পরে আরও ১৫ লাখ টাকা দেন।
কিন্তু পরে ফ্ল্যাট না দিয়ে ওবায়দুল তাঁকে ঘোরাতে থাকেন এবং টাকা ফেরত দিতেও অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে মাহবুবুর নিকুঞ্জে ওবায়দুলের অফিসে গেলে তিনি তাঁর ব্যবসার অংশীদার হরিদাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। হরিদাস সেখানে মাহবুবুরকে জানান যে তাঁর কাছে নগদ টাকা নেই, তবে ফ্ল্যাট আছে এবং তিনি সেটি দিতে পারবেন। হরিদাসের কথায় বিশ্বাস করে মাহবুবুর তাঁকে আরও ৪৫ লাখ টাকা দেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এভাবে দুজন মিলে মোট ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা নিলেও পরে কোনো ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় গত ২৪ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস ও ওবায়দুলের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন মাহবুবুর রহমান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মাসুদ রানা পরদিন হরিদাসকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আজ তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
এর আগে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে গত ১২ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাসের বিরুদ্ধে মামলা করেন সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম। ওই রাতেই গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন ঢাকার আদালত ওই মামলায় তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গত ১৬ জুলাই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
