গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ছয় দফা দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। জোটের নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন, এই লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হলে তা অতিক্রম করে তাঁরা চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে পৌঁছাবেন। একই সঙ্গে পথে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি বা ট্রাক দিয়ে বহর আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জোটের নেতারা এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ—এই ছয় দফা দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে।
সরকারকে সতর্ক করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির কোথাও বাধা দেওয়া, সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা, ভয়ভীতি দেখানো কিংবা নাশকতার চেষ্টা করা হলে প্রমাণ হবে—জুলাই অভ্যুত্থানের পর ‘জুলাই সনদের’ আলোকে আকাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশকে সরকার ধারণ করে না। লংমার্চ বাধাগ্রস্ত করা হলে সরকারের প্রতি জন-অনাস্থা আরও বাড়বে।
জোটের নেতারা অভিযোগ করেন, লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট দেখা যাচ্ছে, যা কৃত্রিম যানজট বলে তাঁদের দাবি। লংমার্চের দিন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলে বা বালুর ট্রাক ও খালি ট্রাক দিয়ে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে। শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচি সফল করতে তাঁরা পুলিশ প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এ ছাড়া সভায় অভিযোগ করা হয়, সরকার গত ছয় মাসে জনদুর্ভোগ ও সংকট সমাধানে ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছে। সংসদে ও এর বাইরে বিরোধীদলীয় সদস্যদের সঙ্গে কটু ভাষায় কথা বলা হচ্ছে এবং সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা বিরোধীদলীয় এমপিদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন নেতারা।
কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হবে। পথে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহিপাল ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা করবে লংমার্চের বহর। স্থানীয় পথসভাগুলোর ব্যবস্থাপনা করবেন ১১ দলের স্থানীয় নেতারা।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীনসহ ১১ দলের অন্যান্য নেতারা।
