আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাঁচ বছর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের মুখে পড়েছিলেন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সোনারগাঁয়ে দলীয় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি, বরং ষড়যন্ত্রকারীরা নিজেরাই ফেঁসে গেছেন।
সোনারগাঁ উপজেলা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে মাওলানা ইকবাল হোসাইনের স্মরণে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন মামুনুল হক।
সেদিনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সভায় বলেন, ‘সেদিন তৌহিদী জনতার তোপের মুখে পড়ে বাঁচার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা আকুতি-মিনতি করেছিল। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মীকে রয়েল রিসোর্টে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা ঘরবাড়ি ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।’
মামলা প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, তৌহিদী জনতার কণ্ঠরোধ করতে তৎকালীন ‘ফ্যাসিবাদী’ সরকার মিথ্যা মামলার পথ বেছে নিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেসব মামলা প্রত্যাহার করেছে।
২০২১ সালে সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে এক নারীসহ অবস্থানকালে মামুনুল হককে ঘেরাও করেছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থকসহ স্থানীয় একদল ব্যক্তি। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। মামুনুল হক তখন ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তবে ওই নারী পরে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছিলেন। হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে তখন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং বেশ কিছুদিন তাঁকে কারাগারে থাকতে হয়।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল কাদের নদভী কাসেমীর সভাপতিত্বে শনিবারের এই সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন খান।
