ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তেহরান সফরে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জাসিম আল থানি। সফরে তিনি ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো উত্তেজনা কমিয়ে আনা এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপের একটি ভিত্তি তৈরি করা। গত এক সপ্তাহে ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বেশ বেড়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও তেহরান সফর করেছেন। কাতার আশা করছে, এসব আলোচনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ সংলাপের একটি কার্যকরী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে সহায়ক হবে।
এরই মধ্যে ওমান ও ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে সাময়িক নৌ চলাচলের একটি কাঠামো নিয়ে তাঁরা একমত হয়েছেন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে জরুরি সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা। পাশাপাশি সমুদ্রপথটি মাইনমুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
কাতার মনে করছে, সাম্প্রতিক এসব তৎপরতা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পুনরায় আলোচনার পথ তৈরি করতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ বিষয়ে এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই; কারণ, যোগাযোগের ধরন নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিতে এখনো বিস্তর ফারাক রয়েছে।
দীর্ঘ কয়েক মাসের সামরিক উত্তেজনার পর দুই দেশের মধ্যে একটি কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ তৈরি হওয়াকে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, এসব তৎপরতাকে যেন দুই দেশের সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হিসেবে দেখা না হয়, কারণ পুরো প্রক্রিয়াটি চলছে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দ্রুত বড় কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা কম হলেও, সব পক্ষই আশা করছে শেষ পর্যন্ত এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ সুগম হবে।
(সূত্র: আল-জাজিরা)

ডেস্ক রিপোর্ট