অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘কৃত্রিম জ্বালানি সংকট’ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রা স্থানান্তরে নিষেধাজ্ঞা এবং ভৌগোলিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির মাধ্যমে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
পশ্চিম তীরে ব্যবহৃত জ্বালানির শতভাগই ইসরায়েল থেকে আমদানি করা হয়। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ মূলত ইসরায়েলের হাতেই বন্দি।
ফিলিস্তিনের নিজস্ব কোনো মুদ্রা না থাকায় সেখানে কেনাবেচায় মূলত ইসরায়েলি ‘শেকেল’ ব্যবহৃত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের কাছে থাকা অতিরিক্ত নগদ অর্থ ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেরত নিতে বাধ্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিস্তিনি ব্যাংকগুলোতে থাকা নগদ অর্থ জমা নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এর ফলে ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ীদের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ থাকা সত্ত্বেও তা ব্যাংকিং চ্যানেলে না যাওয়ায় জ্বালানির মতো জরুরি পণ্য আমদানির অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ইসরায়েলের মুদ্রানীতির এই কড়াকড়ির সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইসরায়েলের ত্বরান্বিত অবকাঠামোগত পরিবর্তন। অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনে নতুন নতুন সড়ক নির্মাণের ফলে প্রধান সড়কগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ফিলিস্তিনি শহরগুলো।
এসব কারণে প্রতিদিন দীর্ঘ ঘুরপথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক তল্লাশিচৌকিতে (চেকপয়েন্ট) তীব্র যানজটে আটকে থাকছে শত শত যানবাহন। দীর্ঘ সময় ইঞ্জিন চালু রাখা এবং বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহারের ফলে ফিলিস্তিনিদের জ্বালানি খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এমন রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। চেকপয়েন্টে ফিলিস্তিনিদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকার চিত্র প্রদর্শন করে ইসরায়েলের ডানপন্থি রাজনীতিকেরা একদিকে নিজ দেশের উগ্র ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে চরম দুর্ভোগে ফেলে ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রাকে আরও কোণঠাসা করে তুলছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট