অভিযোগ রয়েছে, গত ১৬ আগস্ট বিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরের প্রায় ছয় শতক জায়গা দোকানভিটা হিসেবে স্থানীয় ব্যবসায়ী কাজল ও ইব্রাহিম খলিলের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি। জায়গা বিক্রির আগে সেখানে থাকা বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি গাছও তিনি কেটে বিক্রি করেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে সিডিএসপির অর্থায়নে ওই জায়গায় মাটি ভরাট করে জোবায়ের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নির্মিত হয়। বিদ্যালয়টি সরকারীকরণের পর জায়গাটি সরকারি সম্পত্তিতে পরিণত হয় এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা ব্যবহার করে আসছিল।
দোকানভিটা ক্রেতা ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিল জায়গা কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নকশা অনুযায়ী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার মঞ্জুর কাছ থেকে তিনি জায়গাটি দেড় লাখ টাকায় কিনেছেন। ১৬ আগস্ট টাকা লেনদেন শেষে সেখানে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করেছেন তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অতুল চন্দ্র নাথ জানান, বিদ্যালয়ের জায়গার মধ্যে আগে বড় আটটি গাছ ছিল। চেয়ারম্যান আবুল বাশার মঞ্জু গাছগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন। এরপর সীমানার মধ্যে থাকা প্রায় ছয় শতক জায়গা দোকানভিটি হিসেবে ইব্রাহিম খলিল, মোহাম্মদ কাজল ও হেলাল উদ্দিনের কাছে বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, ‘দোকানগুলোতে বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি বিড়ি-সিগারেট বিক্রি হবে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম ক্ষতি হবে এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।’
সরকারি বিদ্যালয়ের জায়গা বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার মঞ্জু বলেন, ‘দোকানভিটা আমিই বিক্রি করেছি। সিডিএসপির সভাপতি থাকা অবস্থায় এই জায়গা আমার দখলে ছিল। আমার দখলের খাসজায়গা আমি বিক্রি করেছি। ২০ বছর আগে মেম্বার (ইউপি সদস্য) থাকাকালে এই জায়গা আমি নিয়েছি।’
পূর্ব চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিক উল্যাও চেয়ারম্যানের এই দাবির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, চেয়ারম্যান ভূমিহীন থাকাকালে ওই জায়গা নিয়েছিলেন এবং নিজের দখলের জায়গাটিই তিনি বিক্রি করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহে আলম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করার সুযোগ সরকার ছাড়া অন্য কারও নেই। বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
