রোববার প্রকাশিত ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ তারকা বলেন, ‘সম্ভবত এটাই আমার ফুটবল জীবনের শেষ বছর। আর আমি একটা দুর্দান্ত লিগ্যাসি (ঐতিহ্য) রেখে যেতে চাই।’
সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের সঙ্গে রোনালদোর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ রয়েছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। তবে গত নভেম্বরে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি আরও এক বা দুই বছর খেলতে পারেন এবং ২০২৬ সালের বিশ্বকাপই হবে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ।
গত মাসে শেষ হওয়া বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগাল। এবারের বিশ্বকাপে তিনটি গোল করেছেন রোনালদো, পর্তুগাল পৌঁছেছিল শেষ ষোলোতে। তবে তখন ঠিক কবে বুট জোড়া তুলে রাখবেন, তা নিশ্চিত করেননি তিনি।
সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড জানিয়েছেন, ফুটবল-পরবর্তী জীবনের পরিকল্পনা তিনি ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর অপেক্ষায় আছেন তিনি।
ভোগকে রোনালদো বলেন, ‘আমার পুরো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা আছে। করার মতো এত কিছু আছে যে একটা জিনিস আলাদা করে বলা কঠিন। কারণ, ফুটবল ছেড়ে দিলে বড় একটা শূন্যতা তৈরি হতে পারে। তাই সময়টা নানাভাবে কাজে লাগাতে হবে। আরও মজা করতে হবে, বেশি ভ্রমণ করতে হবে এবং প্যাডেল খেলা দেখতে ও খেলতে হবে, যা আমার খুব পছন্দের। আর যা অর্জন করেছি, তা আমরা উপভোগ করতে চাই। কারণ, শেষ পর্যন্ত এটা পঁচিশ বছরের অনেক ত্যাগের ফল।’
দীর্ঘদিনের প্রেমিকা জর্জিনা রদ্রিগেজের সঙ্গে রোনালদোর বিয়ের ঠিক পাঁচ দিন আগে এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ পায়। পর্তুগালের কাসকাইসে তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
এদিকে, রোনালদোর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিও সম্প্রতি তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। বাবা হোর্হের মৃত্যুর পর তিনি আর কত দিন খেলবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদোর পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল পর্তুগালের স্পোর্টিং লিসবনে। এরপর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাস হয়ে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তিনি যোগ দেন আল নাসরে। রিয়াল মাদ্রিদে কাটানো ৯ বছর ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল সময়; সেখানে ৪৩৮ ম্যাচে তিনি ৪৫০ গোল করেন, যা ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

ডেস্ক রিপোর্ট