রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ , ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রবাসীর স্ত্রী-মেয়ের গলায় রামদা ধরে জিম্মি, স্বর্ণালংকার ও অর্থ লুট মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে পারে মিসর: এরদোয়ান যুক্তরাষ্ট্রের পর ইউরোপেও পোশাক রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার কিশোরগঞ্জ সফরে তারেক রহমান উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষের প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার শেষ হওয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে আবারও পর্দায় ‘গোপাল ভাঁড়’ কমলনগরে পাটোয়ারীর হাট ইউপি নির্বাচন: স্বতন্ত্র প্রার্থী নোমান সিরাজীকে ঘিরে নতুন সমীকরণ নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে চালু হচ্ছে অজুর স্থান বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম: ব্রেন্ট ক্রুড ছাড়াল ৮৮ ডলার ছাগলে পাতা খাওয়ায় অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন আগস্টের শেষ সপ্তাহে সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিন ছুটির সুযোগ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী আজ মাদারীপুরে বৃদ্ধকে আটকে রেখে মারধর, শ্লীলতাহানির স্বীকারোক্তি আদায়ে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সভায় দুই-তৃতীয়াংশ নেতার অনুপস্থিতি বাঘাইছড়িতে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫০ পরিবার পেল ‘আশিকা’র সহায়তা ভারতকে সবচেয়ে অপছন্দ করে পাকিস্তানিরা, তালিকায় বাংলাদেশও নীলফামারীতে সাপের কামড়ে শিশুসহ দুজনের মৃত্যু বাংলাদেশের গণমাধ্যমের এআই রূপান্তরে গুগলের প্রশিক্ষণ, আবেদন চলছে

যুক্তরাষ্ট্রের পর ইউরোপেও পোশাক রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ

  • আপলোড সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ০৮:১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০৮-২০২৬ ০৮:১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের পর ইউরোপেও পোশাক রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারেও তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেকই আসে ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়া রপ্তানি খাতের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
 

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন মাসের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ৮৬৪ কোটি (৮.৬৪ বিলিয়ন) ইউরোতে নেমেছে। গত বছর একই সময়ে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৩৪ কোটি (১০.৩৪ বিলিয়ন) ইউরো। অর্থাৎ, ছয় মাসে আয় কমেছে প্রায় ১৭০ কোটি ইউরো।
 

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই পতনের হার বৈশ্বিক গড় পতনের তুলনায় প্রায় ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।
 

অন্যদিকে, ইইউর বাজারে প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে চীনের রপ্তানি ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে ১১৮২ কোটি ইউরো, তুরস্কের ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ কমে ৩৬৫ কোটি ইউরো এবং ভারতের ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমে ২৩৬ কোটি ইউরো হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানে ব্যতিক্রম ছিল ভিয়েতনাম। দেশটির রপ্তানি সামান্য বেড়ে (শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ) ২০৭ কোটি ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। সামগ্রিকভাবে ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় বিশ্ব থেকে ইইউর পোশাক আমদানি কমেছে ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ।

 

ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমার পাশাপাশি পণ্যের গড় ইউনিট মূল্যেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে রপ্তানি করা প্রতি কেজি পোশাকের মূল্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে একই সময়ে বিশ্ববাজার থেকে ইইউর পোশাক আমদানির গড় মূল্য কমেছে ৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
 

বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগীদের মধ্যে ভিয়েতনাম এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখিয়েছে। একই সময়ে ইইউর বাজারে পোশাকের মূল্যে ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দেশটি।

 

রপ্তানিকারক ও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক চাহিদায় কমতি বাংলাদেশের পোশাক খাতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর চীনের উৎপাদকেরা তাদের পণ্যের একটি বড় অংশ আরও প্রতিযোগিতামূলক দামে ইউরোপের বাজারে সরিয়ে নিচ্ছেন, যা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বাংলাদেশে পোশাকের রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ার পেছনে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের অনিশ্চয়তা, তীব্র জ্বালানি সংকট, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক ক্রেতাদের সোর্সিং কৌশলে পরিবর্তন—সব কটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করছে।’
 

তিনি আরও বলেন, গ্যাস ও জ্বালানিসংকটের কারণে কারখানাগুলো নিয়মিত উৎপাদন চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ক্রেতারা ইতিমধ্যে তাদের পরিকল্পিত অর্ডারের একটি অংশ বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে সরিয়ে নিয়েছেন।

 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রপ্তানির বর্তমান পতন মূলত অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত দুই ধরনের ধাক্কার সম্মিলিত ফল। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার পরিবর্তন, চীন ও ভিয়েতনামের বাড়তি প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের ওপর বাহ্যিক চাপ বাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের ভেতরে জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং ব্যবসার পরিবেশের নানা সীমাবদ্ধতা রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে।’
 

তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব ক্রেতা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে নির্ভরযোগ্য সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করেছেন, তারা এখন ঝুঁকি কমাতে অন্য দেশে যাওয়ার কথা ভাবছেন। একবার কোনো ক্রেতা বিকল্প সরবরাহকারীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করলে সেই অর্ডার পুনরুদ্ধার করা কঠিন হতে পারে।
 

তাই এখনই কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো দূর করে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন এই অর্থনীতিবিদ।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিজস্ব প্রতিবেদক

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য

সর্বশেষ সংবাদ
প্রবাসীর স্ত্রী-মেয়ের গলায় রামদা ধরে জিম্মি, স্বর্ণালংকার ও অর্থ লুট

প্রবাসীর স্ত্রী-মেয়ের গলায় রামদা ধরে জিম্মি, স্বর্ণালংকার ও অর্থ লুট