মোঃ জসীম মিয়া, মাদারীপুর: মাদারীপুরের শিবচরে পূর্বশত্রুতার জেরে এক বৃদ্ধকে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগে আটকে রেখে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। হত্যার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির স্বীকারোক্তি আদায় করে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
গুরুতর আহত ওই বৃদ্ধ বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মেয়ে লিমা আক্তার বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে শিবচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ভুক্তভোগী লিয়াকত শিকদার শিবচর উপজেলার বহেরাতলা ইউনিয়নের লপ্ত সরকারচর এলাকার মোনতাজ উদ্দিন সিকদারের ছেলে।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১ আগস্ট বিকেলে শিবচর উপজেলার কলাতলা এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল খাঁর স্ত্রী অসুস্থতার কথা বলে কবিরাজি চিকিৎসার জন্য লিয়াকত শিকদারকে তাঁদের বাড়িতে ডেকে নেন। পরে তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রেখে জাহিদুল খাঁর স্ত্রীর শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ তোলা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন মিলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে লিয়াকত শিকদারকে বেধড়ক মারধর করেন।
পরিবারের অভিযোগ, মারধরের পর হত্যার ভয় দেখিয়ে লিয়াকত শিকদারকে দিয়ে জোর করে শ্লীলতাহানির অভিযোগ স্বীকার করানো হয়। এ সময় তাঁর সেই বক্তব্যের একটি ভিডিও ধারণ করা হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত লিয়াকত শিকদারকে উদ্ধার করে প্রথমে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকায় পাঠান।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগীর মেয়ে লিমা আক্তার বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার কারণে ওরা আমার বাবার ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাঁকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। আমার বাবা এখন মৃত্যুশয্যায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুল খলিফা বলেন, ‘লিয়াকত সিকদার একজন ভালো মানুষ। তাঁর ওপর যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর ওপর যে অত্যাচার করা হয়েছে, তা অমানবিক। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’
এ বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘বৃদ্ধের ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
