শর্ত মেনে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) গতকাল রোববার (৯ আগস্ট) এ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শত্রুপক্ষ (যুক্তরাষ্ট্র) তাদের সব শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধের কৌশল অব্যাহত থাকবে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে কার্যত এই নৌপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। তেহরান এখন এই পথে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের পাশাপাশি নিজেদের নির্ধারিত পথ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা জাহাজের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এর আগে গত শনিবার ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানের বেশ কয়েকটি শর্ত তুলে ধরেন। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে জানা যায়, এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে—ইরান এবং লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাকে তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ও আগ্রাসন’ বন্ধ করা।
এ ছাড়া ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধ তুলে নেওয়া, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তেহরান।
যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল করত। তবে জলপথটিতে অব্যাহত হামলা ও উত্তেজনার কারণে গত এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকে গত জুনের সমঝোতার শর্তে ফিরে এসে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির চলাচল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা শেষ পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্যান্য শর্ত পূরণ এবং জুনের সমঝোতা লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
আরাগচি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা করছে না ইরান। কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট