ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছরের মাথায় ভারতে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল বুধবার (৫ আগস্ট) দিল্লিতে ‘ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিষয়টি নিয়ে কড়া নজর রাখছে সরকার।
দিল্লির এই ব্রিফিংয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা, সাবেক কূটনীতিক ও বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ ও বিশ্লেষক আবু ওবাইদা অরিন উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
বিষয়টি সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) সাংবাদিকদের বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেওয়া ভারত সমর্থন করে কি না, দেশটির সরকারকে এটি স্পষ্ট করতে বলা হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, পলাতক আসামিরা বিদেশে বসে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্তের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করুক, তা বাংলাদেশ বা ভারত কেউই চায় না। প্রয়োজন মনে করলে বিষয়টি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। সাক্ষাৎকালে শেখ হাসিনাসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেউ যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, সে বিষয়ে দিল্লির সহযোগিতা চান উপদেষ্টা। ভারতীয় হাইকমিশনার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) লোকসভায় উত্থাপিত প্রতিবেদনে ভারত জানায়, অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার নীতি ভারত ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করে আসছে এবং শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও একই নীতি বহাল রাখা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট