ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সংঘটিত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে সাধারণ মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও মুক্তির সংগ্রামের প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বেলজিয়াম বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান লিটল।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) কুমিল্লার দেবিদ্বারে গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।
সাইদুর রহমান লিটল বলেন, ‘৫ আগস্ট শুধু একটি তারিখ নয়, এটি ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, সাহস ও ঐক্যের মাধ্যমে অর্জিত একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই বিজয় রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে, তাই জাতি শহীদদের চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য ৫ আগস্টের চেতনাকে ধারণ করতে হবে। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
৪ আগস্টের রক্তাক্ত ঘটনা
৫ আগস্টের আগের দিন, ৪ আগস্ট, দেবিদ্বারের আজগর আলী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও বারেরা নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে আব্দুর রাজ্জাক রুবেল নামে এক যুবক নিহত হন। ওই দিনের সংঘর্ষে আরও অনেকে আহত হন, যা পরদিনের আন্দোলনকে আরও বেগবান করে।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও দেবিদ্বারে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। ১৬ আগস্ট ২০২৪ ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সাইচাপাড়া গ্রামে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ ও পূর্বের কার্যালয় ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকে সংঘর্ষে সিদ্দিকুর রহমান নামে একজন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন।
স্মরণে শহীদ ও আহতরা
স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন প্রতিবছর ৪ ও ৫ আগস্ট দেবিদ্বারে নিহত ও আহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং স্মৃতিচারণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে। বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাইদুর রহমান লিটল বলেন, “যারা জীবন দিয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন, জাতি তাঁদের অবদান চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। নতুন প্রজন্মকে ২০২৪ সালের আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।”
তিনি আরও বলেন, ১৬ বছরের শাসনব্যবস্থার অবসানের মাধ্যমে ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম নতুন গতি পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ৪ ও ৫ আগস্ট দেবিদ্বারের ঘটনাবলি দেশের গণআন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষার অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হবে।
