আগস্টের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবারের ভোট হচ্ছে দলীয় প্রতীক ছাড়াই। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার আইন ও বিধিমালায় একগুচ্ছ সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে কমিশন। ইসির নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা এই ভোটে প্রার্থী হতে পারবেন না।
প্রস্তাবিত আইনটি পাস হলে চাকরিতে বহাল থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ হারাবেন। একই সঙ্গে ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক এবং লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তিদেরও নির্বাচনে অযোগ্য করতে চায় ইসি।
দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা সাড়ে ৭ লাখের বেশি। ইসির এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব দেলাওয়ার হোসেন আজীজী বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের মধ্যে যে ধরনের গুণাবলি থাকে, শিক্ষকেরা তুলনামূলকভাবে একটু ভিন্নধর্মী। এজন্য তাঁরা সমাজে যে সেবাটা দিতে পারেন, সেটা আসলে একজন রাজনীতিবিদের পক্ষে সৎ থেকে ওইভাবে দেওয়ার সুযোগ নেই। সেই জায়গা থেকে আমরা বলব, এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।’
তিনি আরও বলেন, ‘সর্বোপরি, জাতীয়করণ করার আগে যদি আমাদের ওপর সরকারি সব নিয়মকানুন চাপিয়ে দিতে চান, তাহলে সেটি বুমেরাং হতে পারে। আমরা এটি কোনোভাবেই মেনে নেব না।’
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় নির্বাচনের আইন সংশোধনের ফলে নতুন করে বিরোধ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলী। তিনি বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা। একটি নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সরকার গঠিত হয়, আর অন্যটি এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবা দেওয়ার জন্য প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করে। তাই এই দুই নির্বাচনের কাঠামো ও উদ্দেশ্য ভিন্ন। সে ক্ষেত্রে যোগ্যতার মাপকাঠিতে দুইটিকে একই পাল্লায় মাপা ঠিক নয়।’
স্থানীয় সরকারের সব আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করার যে প্রস্তাব ইসি করেছে, তারও সমালোচনা করেন এই নির্বাচন বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ঢাল হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করাটা যৌক্তিক মনে করি না। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অধিকসংখ্যক র্যাব মোতায়েন করেই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছিল। যখন আইনে সশস্ত্র বাহিনীর কথা উল্লেখ থাকবে, তখন জনগণের পক্ষ থেকেই সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি উঠবে। তখন ইসি সেনাবাহিনী মোতায়েন না করলে এবং নির্বাচনে কোনো ত্রুটি হলে সাধারণ মানুষ ইসির দিকেই আঙুল তুলবে।’
ইসি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনের এই সংশোধনীগুলোর বিষয়ে শিগগিরই সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠাবে নির্বাচন কমিশন।
