২০২৪ সালের ২৬ জুলাই। দিনটি ছিল শুক্রবার। একদিকে ছুটির দিনের নীরবতা, অন্যদিকে দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ককে হাসপাতাল থেকে তুলে নেওয়া, সারা দেশে গণগ্রেপ্তার এবং আবু সাঈদ হত্যা নিয়ে পুলিশের সাজানো এফআইআর—এসব ঘটনা সেদিন সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছিল।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তখন তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়নে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫৫৫টি মামলায় শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নিশানা করে গ্রেপ্তার করা হয় ৬ হাজারের বেশি মানুষকে। আন্দোলন দমনের এসব চেষ্টা যখন ব্যর্থ হচ্ছিল, তখনই বিকেলে আসে নতুন মোড়।
রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ককে নিজেদের হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগেও তাঁদের তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর রাস্তায় ফেলে রাখার অভিযোগ ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সাদা পোশাকের ডিবি পুলিশ তাঁদের তুলে নেওয়ায় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
আগের দিন ভাঙচুর হওয়া মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করে কান্না ও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সমালোচনা ও ক্ষোভ সামাল দিতেই যেন ২৬ জুলাই তিনি ছুটে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
২৬ জুলাই সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে রংপুর থেকে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় পুলিশের করা এফআইআর সেদিন সামনে আসে। ওই এফআইআরে আবু সাঈদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে পুলিশের গুলির কথা সম্পূর্ণ চেপে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতকে দায়ী করা হয়। পুলিশের এই সাজানো এফআইআর যেন জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢেলে দেয়।
পুলিশের সাজানো মামলা আর হাসপাতাল থেকে তিন সমন্বয়ককে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা আন্দোলন দমানোর বদলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ২৬ জুলাইয়ের পর টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—গোটা দেশ রূপ নেয় এক অপ্রতিরোধ্য গণবিক্ষোভে, যা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় এক ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে।

ডেস্ক রিপোর্ট