সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় বিয়ের তারিখ ও কাবিননামা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধূম্রজাল। এমপির লিখিত বক্তব্য ও কাবিননামায় বিয়ের তারিখ ১৭ জুন ২০২৬ উল্লেখ থাকলেও খোদ বিয়ের কাজী জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তাঁর দাবি, পাত্রের কথামতো পেছনের তারিখ দিয়ে কাবিননামা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তাতে সই নেওয়া হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই)।
গণমাধ্যমের সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপকালে বিয়ের কাজী বাকী বিল্লাহ এ তথ্য দেন। তিনি জানান, বিয়ের অনুষ্ঠান কোথায় সম্পন্ন হয়েছে, তা তিনি নিজেও জানেন না। তিনি আরও স্বীকার করেন যে কাবিননামা তৈরির দিন পাত্র-পাত্রী কেউই উপস্থিত ছিলেন না, কেবল কয়েকজন সাক্ষী এসে স্বাক্ষর করে গেছেন। পরে গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পাত্র-পাত্রী কাবিননামায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন।
কাবিননামায় বিয়ের তারিখ ১৭ জুন উল্লেখ করা হলেও পারিপার্শ্বিক ঘটনা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, ১৭ জুন বিয়ে হয়ে থাকলে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তরুণী মরিয়ম খাতুনকে এমপি নজরুল কেন নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেননি? উল্টো একজন তরুণীকে একটি কক্ষে নিয়ে আসার জন্য ওই ভিডিওতে তাঁকে ক্ষমা চাইতে দেখা গেছে, যা কাবিননামার সত্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এ ছাড়া ২২ জুন তারিখের একটি জীবনবৃত্তান্তে (সিভি) মরিয়ম খাতুন নিজেকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, ১৭ জুন বিয়ে হয়ে থাকলে পাঁচ দিন পর সিভিতে কেন তাঁকে অবিবাহিত দেখানো হলো? আর স্বামী পরিচয় দেওয়ার পরও কেন এমপি নজরুল ওই সিভিতে তরুণীর চাকরির জন্য জোর সুপারিশ করলেন?
তরুণীর সঙ্গে এমপির ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে তাঁর দল জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া সেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ ঘটনার প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভিডিওটি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আজিজুর রহমান। তিনি জানান, ইতিমধ্যে দলীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
