সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও এবং এক তরুণীর জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা আজ বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি জানান।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। তবে এমপির দাবি, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে গত ১৭ জুন তিনি তাঁকে বিয়ে করেছেন।
ভিডিওর পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে ওই তরুণীর একটি সিভি বা জীবনবৃত্তান্তও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ রয়েছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ওই সিভিতে এমপি নজরুল ইসলামের স্বাক্ষর রয়েছে। সেখানে সবুজ কালিতে ‘জোর সুপারিশ করছি’ লিখে তিনি স্বাক্ষর করেছেন, যার তারিখ উল্লেখ আছে ২২ জুন ২০২৬। অর্থাৎ, এমপির দাবি অনুযায়ী বিয়ের পাঁচ দিন পর সিভিতে তরুণীকে অবিবাহিত উল্লেখ করে চাকরির সুপারিশ করা হয়েছে।
এই অসংগতির বিষয়টি তুলে ধরে এনসিপির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, সিভি অনুযায়ী ওই তরুণীর বয়স মাত্র ১৮ বছর এবং এসএসসি শেষ করেই তিনি চাকরি খুঁজছেন, যা তাঁর পরিবারের অভাবের ইঙ্গিত দেয়।
তাসনিম জারা তাঁর পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, ‘এ দেশে গরিবের চাকরি হয় কীভাবে? পরীক্ষা দিয়ে, লাইনে দাঁড়িয়ে। আর সবশেষে, কোনো ক্ষমতাবান মানুষের দরজায় গিয়ে সুপারিশ নিয়ে। সিভিতে সই পড়ল, জোর সুপারিশ করা হলো। কিন্তু সুপারিশের দাম হিসেবে মেয়েটিকে কী দিতে হয়েছে? হয়তো কিছুই না, হয়তো সবকিছু। আর এই “জানি না”-টাই আসল কথা।’
সংসদ সদস্য পদের অপব্যবহার করে চাকরির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে কোনো অসহায় মেয়েকে ফাঁদে ফেলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাসনিম জারা বলেন, ‘যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ আমাদের সামনে এসেছে। তদন্ত কমিটি হোক, খতিয়ে দেখা হোক। অভিযোগ মিথ্যা হলে মানুষটা কলঙ্কমুক্ত হবেন। আর সত্য হলে, মহান সংসদের মর্যাদাটুকু বাঁচাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’
সংসদ যদি এ বিষয়ে নীরব থাকে, তবে তা গরিবকে শোষণ করার হাতিয়ার হিসেবেই প্রমাণিত হবে বলে মন্তব্য করেন তাসনিম জারা। একই সঙ্গে তিনি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় চাকরির জন্য ‘সুপারিশ প্রথার’ কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিটা দল আমাদের কথা দেয় দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার। অথচ সরকার বদলায়, দল বদলায়, কিন্তু সুপারিশের ব্যবস্থাটা বদলায় না। যার সই ছাড়া চাকরি হয় না, সেই গরিব মানুষটাকে জিম্মি রাখার জন্যই কি এই ব্যবস্থা?’
